ফজরের পর ঘুমানোর ব্যাপারে ইসলাম কী বলে?
ফজরের পর ঘুমানোর ব্যাপারে ইসলাম কী বলে?
যান্ত্রিকতা, কথিত সভ্যতা আমাদের একে একে সুন্নাহ থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। জাহেল শ্রেণির কথা তো বাদই, যারা এই দীনকে আকড়ে ধরে চলতে চান । যারা ফজরের সালাত আদায় করেন, তাদেরও ফজরের পর একটু চোখ না বুজলেই নয়। অথচ সুন্নাহ হচ্ছে ফজরের পর না ঘুমানো।
রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুয়া করেছেন,________اللَّهُمَّ بَارِكْ لأُمَّتِي فِي بُكُورِهَا
‘হে আল্লাহ, আমার উম্মতের জন্য দিনের শুরু বরকতময় করুন।’
বর্ণনাকারী বলেন, ‘এ জন্যই রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোনো যুদ্ধ অভিযানে বাহিনী পাঠানোর সময় দিনের শুরুতে পাঠাতেন। আর সাখর (রা.) ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। তিনিও তাঁর ব্যবসায়িক কার্যক্রম ভোরবেলা শুরু করতেন। এতে তাঁর ব্যবসায় অনেক উন্নতি হয় এবং তিনি সীমাহীন প্রাচুর্য লাভ করেন।’ [আবু দাউদ খন্ড নং পৃষ্ঠা নং হাদিস নং ২৬০৬]কিতাবুল জিহাদ তিরমিযী ১২১২, , আহমাদ ১৫০১৭, ১৫১৩০, ১৮৯৩৭, ১৮৯৮৫, রাওদুন নাদীর ৪৯০, সহীহ আবু দাউদ ২৩৪৫,
সালফরা ফজরের পর ঘুমানোকে মাকরুহ মনে করেতেন। উরওয়া ইবনু যুবাইর (রহ.) বলেন, যুবাইর (রা.) তাঁর সন্তানদেরকে ভোরবেলা।
ঘুমানোর ব্যাপারে নিষেধ করতেন। উরওয়া (রহ.) বলেন,-----
إِنِّي لَأَسْمَعُ بِالرَّجُلِ يَتَصَبَّحُ فَأَزْهَدُ فِيهِ
‘আমি যখন কারো সম্পর্কে শুনি, সে ভোরবেলা ঘুমায় তখন তার প্রতি আমি আগ্রহ হারিয়ে ফেলি।’ [মুসান্নাফ ইবনু আবি শাইবা, ৫/২২২]
আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.) তাঁর এক সন্তানকে ভোরবেলা ঘুমাতে দেখে বলেছিলেন,
أتنام في الساعة التي تُقسَّم فيها الأرزاق؟
‘ওঠো, তুমি কি এমন সময়ে ঘুমিয়ে আছ, যখন রিজিক বণ্টন করা হচ্ছে?’ [যাদুল মাআ’দ : ৪/২৪১]
আমরা প্রায়ই বলে থাকি, আমাদের সময়ে বরকত নেই, এর অন্যতম একটা কারণ হচ্ছে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা যখন বরকত দেন, সেই সময়টা আমরা ঘুমিয়ে কাটিয়ে দেই। সুতরাং জীবনে প্রাচুর্য আনতে ফজরের পর ঘুম আর নয়। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদের এই বরকতময় সময়কে কাজে লাগানোর তাওফিক দান করুন।
مُحَمَّدُ بْنُ سَلاَمٍ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ بَشِيرٍ أَبُو بَكْرٍ أَخْبَرَنَا هَاشِمُ بْنُ هَاشِمٍ قَالَ أَخْبَرَنِي عَامِرُ بْنُ سَعْدٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبِي يَقُوْلُ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلميَقُوْلُ مَنْ اصْطَبَحَ بِسَبْعِ تَمَرَاتِ عَجْوَةٍ لَمْ يَضُرَّه“ ذ‘لِكَ الْيَوْمَ سَمٌّ وَلاَ سِحْرٌ.
বুখারী শরীফ খন্ড নং ২ পৃষ্ঠা নং হাদীস শরীফ নং ৫৭৭৯. সা‘দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি ভোরবেলা সাতটি আজ্ওয়া খুরমা খেয়ে নিবে, সে দিন বিষ কিংবা যাদু তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। বুখারী শরীফ খন্ড নং ২- পৃষ্ঠা নং হাদিস (আধুনিক - ৫৩৫৫, ইসলামিক ফাউন ৫২৫১)
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خِدَاشٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ زَكَرِيَّاءَ الْقُرَشِيُّ، حَدَّثَنَا الزُّبَيْرُ بْنُ سَعِيدٍ الْهَاشِمِيُّ، عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ سَالِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ " مَنْ لَعِقَ الْعَسَلَ ثَلاَثَ غَدَوَاتٍ كُلَّ شَهْرٍ لَمْ يُصِبْهُ عَظِيمٌ مِنَ الْبَلاَءِ " .
ইবনে মাজাহ শরীফ পৃষ্ঠা নং হাদীছ শরীফ নং ১/৩৪৫০। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি প্রতি মাসে তিন দিন ভোরবেলা মধু চেটে চেটে খেলে সে মারাত্মক কোন বিপদে আক্রান্ত হবে না।
حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنِ ابْنِ هُبَيْرَةَ، عَنْ أَبِي تَمِيمٍ الْجَيْشَانِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ " لَوْ أَنَّكُمْ تَوَكَّلْتُمْ عَلَى اللَّهِ حَقَّ تَوَكُّلِهِ لَرَزَقَكُمْ كَمَا يَرْزُقُ الطَّيْرَ تَغْدُو خِمَاصًا وَتَرُوحُ بِطَانًا " .
ইবনে মাজাহ শরীফ পৃষ্ঠা নং হাদীছ শরীফ নং ১/৪১৬৪। উমার (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ যদি তোমরা যথার্থই আল্লাহর উপর ভরসা করতে, তাহলে তিনি অবশ্যই তোমাদেরকে পাখির মত রিযিক দান করতেন। ভোরবেলা পাখিরা খালিপেটে (বাসা থেকে) বের হয়ে যায় এবং সন্ধ্যাবেলা উদর পূর্তি করে (বাসায়) ফিরে আসে।
তিরমিযী শরীফ খন্ড নং পৃষ্ঠা নং হাদিস নং ২৩৪৪ কিতাবুয যুহদ
, আহমাদ ৩৭২। তাখরীজুল মুখতার ২১৭, ২১৮, সহীহাহ ৩১০।
بَاب التَّوَكُّلِ وَالْيَقِينِ
৩১/১৪. তাওয়াক্কুল (আল্লাহ ভরসা) ও ইয়াকীন (দৃঢ় প্রত্যয়)
مُحَمَّدُ بْنُ مُقَاتِلٍ قَالَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللهِ قَالَ أَخْبَرَنَا عَوْفٌ عَنْ سَيَّارِ بْنِ سَلاَمَةَ قَالَ دَخَلْتُ أَنَا وَأَبِي عَلَى أَبِي بَرْزَةَ الْأَسْلَمِيِّ فَقَالَ لَهُ أَبِي كَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي الْمَكْتُوبَةَ فَقَالَ كَانَ يُصَلِّي الْهَجِيرَ الَّتِي تَدْعُونَهَا الْأُولَى حِينَ تَدْحَضُ الشَّمْسُ وَيُصَلِّي الْعَصْرَ ثُمَّ يَرْجِعُ أَحَدُنَا إِلَى رَحْلِهِ فِي أَقْصَى الْمَدِينَةِ وَالشَّمْسُ حَيَّةٌ وَنَسِيتُ مَا قَالَ فِي الْمَغْرِبِ وَكَانَ يَسْتَحِبُّ أَنْ يُؤَخِّرَ الْعِشَاءَ الَّتِي تَدْعُونَهَا الْعَتَمَةَ وَكَانَ يَكْرَهُ النَّوْمَ قَبْلَهَا وَالْحَدِيثَ بَعْدَهَا وَكَانَ يَنْفَتِلُ مِنْ صَلاَةِ الْغَدَاةِ حِينَ يَعْرِفُ الرَّجُلُ جَلِيسَهُ وَيَقْرَأُ بِالسِّتِّينَ إِلَى الْمِائَةِ.
বুখারী শরীফ খন্ড নং __১পৃষ্ঠা নং হাদীস শরীফ নং ৫৪৭. সায়্যার ইবনু সালামাহ (রা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি ও আমার পিতা আবূ বারযা আসলামী (রাএর নিকট গেলাম। আমার পিতা তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরজ সালাতসমূহ কীভাবে আদায় করতেন? তিনি বললেন, আল-হাজীর, যাকে তোমরা আল-উলা বা যুহর বলে থাকো, তা তিনি আদায় করতেন যখন সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়তো। আর ‘আসরের সালাত এমন সময় আদায় করতেন যে, অতঃপর আমাদের কেউ মাদ্বীনার শেষ প্রান্তে তার ঘরে ফিরে যেতো আর সূর্য তখনও সতেজ থাকতো। মাগরিব সম্পর্কে তিনি কী বলেছিলেন তা আমি ভুলে গেছি। আর ‘ইশার সালাত যাকে তোমরা ‘আতামা’ বলে থাকো, তা তিনি বিলম্বে আদায় করা পছন্দ করতেন। আর তিনি ‘ইশার সালাতের পূর্বে নিদ্রা যাওয়া এবং পরে কথাবার্তা বলা অপছন্দ করতেন। তিনি ফজরের সালাত এমন সময় সমাপ্ত করতেন যখন প্রত্যেকে তার পার্শ্ববর্তী ব্যক্তিকে চিনতে পারতো। এ সালাতে তিনি ষাট হতে একশ’ আয়াত তিলাওয়াত করতেন। বুখারী শরীফ খন্ড নং ১-- পৃষ্ঠা নং হাদিস নং ৫৪১ (আধুনিক প ৫১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫২০)
২।জসিম উদ্দিন: কায়লুলা করা সুন্নত, কুরআন-হাদিসে এর কোনো প্রমাণ আছে কী?
উত্তর : কায়লুলা বা দুপুরের খাবারের পর বিছানায় সামান্য আরাম করা সুন্নত। এর মাধ্যমে রাতের এবাদত করতে সুবিধা হয়। হাদিসে আছে, তোমরা কায়লুলা করো, কারণ শয়তান কায়লুলা করে না। আরেক হাদিসে আছে, কায়লুলার দ্বারা রাতের এবাদতে স্বস্তি পাওয়া যায়।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ حَدَّثَنَا زَمْعَةُ بْنُ صَالِحٍ عَنْ سَلَمَةَ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ اسْتَعِينُوا بِطَعَامِ السَّحَرِ عَلَى صِيَامِ النَّهَارِ وَبِالْقَيْلُولَةِ عَلَى قِيَامِ اللَّيْلِ
হযরত ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করিম সা. এরশাদ করেছেন, দিনের রোজা রাখতে রাতে সেহরি খাও এবং রাতের এবাদতে মনোযোগী হতে দিনের বেলা কায়লুলা করো। (ইবনে মাজাহ পৃষ্ঠা নং হাদিস নং ১৬৯৩)তা’লীকুর রগীব ২/৯৩
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيُّ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ ثُمَامَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ أُمَّ سُلَيْمٍ، كَانَتْ تَبْسُطُ لِلنَّبِيِّ ﷺ نِطَعًا فَيَقِيلُ عِنْدَهَا عَلَى ذَلِكَ النِّطَعِ ـ قَالَ ـ فَإِذَا نَامَ النَّبِيُّ ﷺ أَخَذَتْ مِنْ عَرَقِهِ وَشَعَرِهِ، فَجَمَعَتْهُ فِي قَارُورَةٍ، ثُمَّ جَمَعَتْهُ فِي سُكٍّ ـ قَالَ ـ فَلَمَّا حَضَرَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ الْوَفَاةُ أَوْصَى أَنْ يُجْعَلَ فِي حَنُوطِهِ مِنْ ذَلِكَ السُّكِّ ـ قَالَ ـ فَجُعِلَ فِي حَنُوطِهِ.
বুখারী শরীফ খন্ড নং ২ পৃষ্ঠা নং হাদিস নং ৬২৮১. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মু সুলায়ম নাবী ﷺ এর জন্য চামড়ার বিছানা বিছিয়ে দিতেন এবং তিনি সেখানেই ঐ চামড়ার বিছানার উপর কায়লুলা করতেন। অতঃপর তিনি যখন ঘুম থেকে উঠতেন, তখন তিনি তাঁর শরীরের কিছুটা ঘাম ও চুল সংগ্রহ করতেন এবং তা একটা বোতলের মধ্যে জমা করতেন এবং পরে ‘সুক্ক’ নামক সুগন্ধিতে মিশাতেন। রাবী বর্ণনা করেন যে, আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) এর মৃত্যু সন্নিকট হলে, তিনি আমাকে অসিয়ত করলেনঃ যেন ঐ সুক্ক থেকে কিছুটা তাঁর সুগন্ধির সাথে মিলানো হয়। তাই তা তাঁর সুগন্ধিতে মেশানো হয়েছিল। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৩৩)
بَاب مَنْ زَارَ قَوْمًا فَقَالَ عِنْدَهُمْ__
৭৯/৪১. যিনি কোন কাওমের নিকট যান এবং তাদের নিকট ‘কা-ইলাহ’ করেন।
৭৯/৪১. যিনি কোন কাওমের নিকট যান এবং তাদের নিকট ‘কা-ইলাহ’ করেন।
وَقَالَ لَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَأَنَّهُ طَافَ طَوَافًا وَاحِدًا ثُمَّ يَقِيلُ ثُمَّ يَأْتِي مِنًى يَعْنِي يَوْمَ النَّحْرِ وَرَفَعَهُ عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ
বুখারী শরীফ খন্ড নং ১__ পৃষ্ঠা নং হাদিস নং ১৭৩২. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি একদা তাওয়াফ করলেন, এরপর কায়লুলা করেন এবং অতঃপর মিনায় আসেন অর্থাৎ কুরবানীর দিন। ‘আবদুর রাযযাক (রহ.) এটি মারফূ‘ হাদীস হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, আমার নিকট ‘উবাইদুল্লাহ (রহ.) এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। (মুসলিম ১৫/৫৮, হাঃ ১৩০৮, আহমাদ ৪৭৯৮) (অনুচ্ছেদ ১২৮ কিতাবুল হাজ্জ্ব. ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৬২০)
وَقَالَ أَبُو الزُّبَيْرِ عَنْ عَائِشَةَ وَابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ أَخَّرَ النَّبِيُّ ﷺَ الزِّيَارَةَ إِلَى اللَّيْلِ.وَيُذْكَرُ عَنْ أَبِي حَسَّانَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّ النَّبِيَّ ﷺكَانَ يَزُورُ الْبَيْتَ أَيَّامَ مِنًى
আবূ যুবাইর (রহ.) ‘আয়িশাহ্ (রা.) ও ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, নাবী ﷺ তাওয়াফে যিয়ারাহ্ রাত পর্যন্ত বিলম্ব করেছেন। আবূ হাসসান (রহ.) সূত্রে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নাবী ﷺ মিনার দিনগুলোতে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করতেন।
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَنَسٍ، عَنْ أُمِّ سُلَيْمٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَأْتِيهَا فَيَقِيلُ عِنْدَهَا فَتَبْسُطُ لَهُ نَطْعًا فَيَقِيلُ عَلَيْهِ وَكَانَ كَثِيرَ الْعَرَقِ فَكَانَتْ تَجْمَعُ عَرَقَهُ فَتَجْعَلُهُ فِي الطِّيبِ وَالْقَوَارِيرِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " يَا أُمَّ سُلَيْمٍ مَا هَذَا " . قَالَتْ عَرَقُكَ أَدُوفُ بِهِ طِيبِي .
মুসলিম শরীফ খন্ড নং -২ পৃষ্ঠা নং হাদিস নং ৫৯৫১-(৮৫/২৩৩২) আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... উম্মু সুলায়ম (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট আসতেন এবং বিশ্রাম নিতেন, উম্মু সুলায়ম তার জন্য একটা চামড়ার বিছানা বিছিয়ে দিলে তিনি তার উপর কায়লুলা* করতেন। তিনি প্রচণ্ড ঘামতেন আর উম্মু সুলায়ম তা একত্র করতেন এবং সুগন্ধির বোতলে তা মিশিয়ে রাখতেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, হে উম্মু সুলায়ম! এ কী করছ? তিনি বললেন, আপনার ঘাম, আমি সেটা সুগন্ধির সঙ্গে মিশিয়ে রাখি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৮৪৯, ইসলামিক সেন্টার ৫৮৮৪) অধ্যায় নং ৪৪-- কিতাবুল ফাজায়েল
* দুপুরের খাবারের পর কিছুক্ষণ শুয়ে বিশ্রাম করাকে 'কায়লুলা' বলে।
---باب طِيبِ عَرَقِ النَّبِيِّ ﷺ وَالتَّبَرُّكِ بِهِ .-----
২২.। নাবী ﷺ এর ঘামের সুগন্ধ এবং তা থেকে বারাকাত লাভ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَنَسٍ، عَنْ أُمِّ سُلَيْمٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ يَأْتِيهَا فَيَقِيلُ عِنْدَهَا فَتَبْسُطُ لَهُ نَطْعًا فَيَقِيلُ عَلَيْهِ وَكَانَ كَثِيرَ الْعَرَقِ فَكَانَتْ تَجْمَعُ عَرَقَهُ فَتَجْعَلُهُ فِي الطِّيبِ وَالْقَوَارِيرِ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ " يَا أُمَّ سُلَيْمٍ مَا هَذَا " . قَالَتْ عَرَقُكَ أَدُوفُ بِهِ طِيبِي .
মুসলিম শরীফ খন্ড নং_২ পৃষ্ঠা নং হাদিস নং৫৯৫১-(৮৫/২৩৩২) আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) উম্মু সুলায়ম (রা) হতে বর্ণিত যে, নাবী ﷺ তার নিকট আসতেন এবং বিশ্রাম নিতেন, উম্মু সুলায়ম তার জন্য একটা চামড়ার বিছানা বিছিয়ে দিলে তিনি তার উপর কায়লুলা* করতেন। তিনি প্রচণ্ড ঘামতেন আর উম্মু সুলায়ম তা একত্র করতেন এবং সুগন্ধির বোতলে তা মিশিয়ে রাখতেন। নাবী ﷺবলেন, হে উম্মু সুলায়ম! এ কী করছ? তিনি বললেন, আপনার ঘাম, আমি সেটা সুগন্ধির সঙ্গে মিশিয়ে রাখি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৮৪৯,
بَاب الْقَائِلَةِ بَعْدَ الْجُمُعَةِ.----১১/৪১. জুমু‘আহর পরে কায়লুলাহ (দুপুরে শয়ন ও হাল্কা নিদ্রা)।
وَعَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ: مَا كُنَّا نُقِيْلُ وَلَا نَتَغَدَّى إِلَّا بَعْدَ الْجُمُعَةِ. (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
মিশকাত শরীফ পৃষ্ঠা নং হাদিস নং ১৪০২-[২] সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা জুমু‘আর দিন জুমু‘আর নামাজ) আদায় করার পূর্বে খাবারও গ্রহণ করতাম না, বিশ্রামও করতাম না। (বুখারী ৯৩৯, মুসলিম ৮৫৯, ইবনু মাজাহ্ ১০৯৯।
[1] বুখারী ৫২৫,৯৩৯, ১৯৩৮, ৯8১, ২৩৪৯, ৫৪০৩, ৬২৪৮, মুসলিম ৮৫৯, তিরমিযী ৫২৫, ইবনু মাজাহ ১০৯৯। আর এটা মুসলিম শরীফে আলী বিন হুজরের রিওয়ায়াত।
ব্যাখ্যা: আন্ নিহায়াহ্ গ্রন্থে রয়েছে যে, ক্বায়লুলাহ্ হলো অর্ধ দিবসে বিশ্রাম গ্রহণ করা, যদিও তার সাথে ঘুম না থাকে।--(اَلْغَدَاء)__
ঐ খাদ্য, যা দিনের প্রথম ভাগে খাওয়া হয়। বুখারীর অপর বর্ণনায় রয়েছেঃ আমরা নাবী ﷺ-এর সাথে জুমু‘আহ্ আদায় করতাম, অতঃপর ক্বায়লুলাহ্ করতাম। এ হাদীস থেকে ইমাম আহমাদ দলীল গ্রহণ করেছেন যে, জুমু‘আর নামাজ) সূর্য ঢলার পূর্বে আদায় করা বৈধ, কেননা ক্বায়লুলাহ্ ও গাদা (সকালের খাবার/দুপুরের খাবার) উভয়ের স্থান হলো সূর্য ঢলার পূর্বে। তিনি ক্বাতাদাহ্ হতে বর্ণনা করেন, সূর্য ঢলার পর ক্বায়লুলাহ্ এবং গাদা অবশিষ্ট থাকে না। জবাবে ‘আমির আল ইয়ামানী (রহঃ) বলেনঃ সাহল (রাঃ) বর্ণিত হাদীস জুমু‘আর সলাত সূর্য ঢলার পূর্বে আদায়ের দলীল নয়। কেননা তারা (সাহাবায়ে কিরামগণ) মক্কা এবং মাদীনায় যুহরের পর ছাড়া ক্বায়লুলাহ্ ও দুপুরের খাবার খেতেন না। যেমন- আল্লাহ তা‘আলার কথাঃ_وَحِيْنَ تَضَعُوْنَ ثِيَابَكُمْ مِنَ الظَّهِيرَةِ
‘‘দুপুরের যখন তোমরা বস্ত্র রেখে দাও (বিশ্রামের জন্য)।’’ (সূরাহ্ আন্ নূর ২৪ : ৫৮)
তবে হ্যাঁ নাবী ﷺ সর্বদাই সূর্য ঢলার প্রথম সময়ে জুমু‘আর সলাত আদায় করতেন, যা যুহরে করতেন না।
* দুপুরের খাবারের পর কিছুক্ষণ শুয়ে বিশ্রাম করাকে 'কায়লুলা' বলে।
৩।আমার জোহরের পর অফিসে ডিউটি থাকায় আমি আসরের পর একটু বিশ্রাম নিয়ে থাকি। প্রশ্ন হলো, আসরের পর ঘুমানোর ক্ষেত্রে কি শরিয়তে কোনো নিষেধাজ্ঞা আছে?
উত্তর بسم الله الرحمٰن الرحيم. حامدا و مصليا و مسلما
কতক উলামায়ে কেরামের মতে আসরের পর প্রয়োজন ছাড়া ঘুমানো মাকরূহ। এ ব্যাপারে একটি যয়ীফ হাদিস রয়েছে,__________مَنْ نَامَ بَعْدَ الْعَصْرِ، فَاخْتُلِسَ عَقْلُهُ، فلا يَلُومَنَّ إِلَّا نَفْسَهُ
‘রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আসরের পর ঘুমায় আর তার বুদ্ধি কমে যায়, তবে সে যেন নিজেকে তিরস্কার করে।’ [মুসনাদে আবি ইয়ালা, হাদিস: ৪৮৯৭]
তবে প্রয়োজন থাকলে আসরের পর ঘুমাতে কোনো সমস্যা নেই।
আল্লাহ তা‘আলাই সবচেয়ে ভালো জানেন।
و الله تعالى أعلم بالصواب----وصلى الله تعالى على رسوله وعلى آله وسلم
৪।ইশার পূর্বে নিদ্রা যাওয়া এবং পরে কথাবার্তা বলা অপছন্দ করতেন।
مُحَمَّدُ بْنُ سَلاَمٍ قَالَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ الْحَذَّاءُ عَنْ أَبِي الْمِنْهَالِ عَنْ أَبِي بَرْزَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَكْرَهُ النَّوْمَ قَبْلَ الْعِشَاءِ وَالْحَدِيثَ بَعْدَهَا.
বুখারী শরীফ খন্ড নং __১ পৃষ্ঠা নং হাদীস শরীফ নং৫৬৮. আবূ বারযাহ (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ইশার পূর্বে নিদ্রা যাওয়া এবং পরে কথাবার্তা বলা অপছন্দ করতেন। (৫৪১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৫৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫৪১)
৯/২৩. ‘ইশার সলাতের পূর্বে ঘুমানো অপছন্দনীয়। _______بَاب مَا يُكْرَهُ مِنْ النَّوْمِ قَبْلَ الْعِشَاء
ِ
সহিহ বোখারি ও মুসলিমের বর্ণনায় আছে, হজরত আবু বারযা আল আসলামি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম.) এশার আগে ঘুমানো এবং এশার পর কথাবার্তা বলাকে অপছন্দ করতেন। ’ –সহিহ বোখারি: ৫৪৭
হজরত রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম.) এশার আগে ঘুমাতে নিষেধ করেছেন এবং এশার পর কথাবার্তা বলতে নিষেধ করেছেন এ ব্যাপারে আরও অনেক বর্ণনা রয়েছে।
এ সময় ঘুমানো মাকরূহ হওয়ার কারণ আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘কেননা এশার পূর্বে ঘুমালে মূল ওয়াক্তই চলে যেতে পারে অথবা উত্তম ওয়াক্ত ছুটে যেতে পারে। ’ -ফাতহুল বারি: ৫৭৪ এর আলোচনায়

কোন মন্তব্য নেই